চলতি মাসে ভারতে কমতে পারে স্বর্ণের আমদানি

ভারত গত নভেম্বরে রেকর্ড স্বর্ণ আমদানি করেছিল। তবে ডিসেম্বরে তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে।

ভারত গত নভেম্বরে রেকর্ড স্বর্ণ আমদানি করেছিল। তবে ডিসেম্বরে তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে। বাণিজ্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

তারা জানান, বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী দামে স্বর্ণ বেচাকেনা হচ্ছে। এছাড়া ডিসেম্বরে বড় কোনো উৎসব না থাকায় খুচরা ক্রেতারা মূল্যবান ধাতুটির ক্রয় স্থগিত রেখেছেন।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ। আমদানির এ হ্রাস ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি (যখন কোনো দেশের রফতানি থেকে আমদানির পরিমাণ বেশি হয়) কমাতে ও রুপির বিনিময় হার স্থিতিশীল করতে সাহায্য করতে পারে।

উল্লেখ্য, কোন দেশ স্বর্ণ অথবা অন্য যেকোনো পণ্য যদি কম আমদানি করে, তাহলে বিদেশে অর্থ ব্যয় কমে যায়। ফলে বাণিজ্য ঘাটতিও কম হয়।

ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (আইবিজেএ) সভাপতি প্রীতিরাজ কোঠারি বলেন, ‘গত মাসে বিনিয়োগ ও গহনার শক্তিশালী চাহিদার কারণে আমদানি বেড়ে গিয়েছিল। তবে এখন এ পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। ডিসেম্বরে আমদানি কমতে পারে ৫০ শতাংশ।’

বেসরকারি বুলিয়ন আমদানিকারক ব্যাংকের মুম্বাইভিত্তিক এক ডিলার বলেন, ‘নভেম্বরে ভারতে স্বর্ণ আমদানি ব্যয় আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১ হাজার ৪৮০ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। সে সময় বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছে ও রুপির বিনিময় হার ইতিহাসের সর্বনিম্নে নেমে যায়।’

তিনি জানান, ‘নভেম্বরে ভারতে অভ্যন্তরীণভাবে স্বর্ণের দাম প্রতি ১০ গ্রামে ৭৩ হাজার ৩০০ রুপিতে (৮৬৩ ডলার) নেমে আসে। তবে ডিসেম্বরে দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। ক্রেতারা স্বর্ণ ক্রয় কমিয়েছেন। এ সময় মূল্যবান ধাতুটির আমদানি ব্যয় প্রায় ৫০০ কোটি ডলার কমে যেতে পারে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাস্টমস কর্মকর্তা বলেন, ‘চলতি মাসের এখন পর্যন্ত নভেম্বরের তুলনায় স্বর্ণের আমদানি কম হচ্ছে।’

এদিকে চাহিদা কম থাকায় ভারতীয় ডিলাররা চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দামের ওপর আউন্সপ্রতি ৮ ডলার পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দিচ্ছেন। এতে ৬ শতাংশ আমদানি ও ৩ শতাংশ বিক্রয় কর অন্তর্ভুক্ত আছে। গত মাসে তারা প্রতি আউন্সে ১৬ ডলার পর্যন্ত মূল্য সংযোজন করেছিলেন।

আরও